স্বপ্নভূমি ডেস্ক : যশোর আদালতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত নয়জন আইন কর্মকর্তার মধ্যে সাতজনের নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে একজনকে পদোন্নতি দিয়ে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরেকজনকে অবনমন দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের উপ-সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ জারি করা হয়। একই আদেশে ভিন্ন পদে আটজনকে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাতিল হওয়া নয়জনের মধ্যে ছয়জন জামায়াত সমর্থিত এবং তিনজন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী। তারা হলেন:
নিয়োগ পাওয়া অন্য আইন কর্মকর্তারা হলেন: এবিএম সাইফুর রহমান (স্পেশাল আদালতের পিপি), মনজুরুল মাহমুদ লিটু (স্পেশাল আদালতের সহকারী পিপি), গোলাম হেকমত আলম (অতিরিক্ত পিপি), নুর আলম পান্নু (সহকারী পিপি থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পিপি), সিরাজুল ইসলাম সাগর (সহকারী পিপি), সাবিহা সুলতানা (সহকারী পিপি)।
গত বছরের ১৪ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৭৭ জনকে জিপি, পিপি, অতিরিক্ত পিপি ও সহকারী পিপি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল, যার অধিকাংশ বিএনপি সমর্থিত ছিলেন।
নিয়োগ বাতিলের ১০ মাস পর যশোর আদালতপাড়ায় নানা আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মকাণ্ডে কোনো অনিয়ম বা ত্রুটি থাকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কিছু সিনিয়র আইনজীবীর মতে, দেশজুড়ে এমন নিয়োগ বাতিল ও পুনঃনিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান, যশোর থেকে তার সূচনা হয়েছে।
নিয়োগ বাতিল হওয়া তাহমিদ আকাশ বলেন, “নিয়োগ বাতিল হতেই পারে, তবে কারণ জানা সবার অধিকার।”
তাজউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, “আমরা রাজনৈতিক কারণে শাস্তি ভোগ করছি, কোনো অবহেলা ছিল না। এটি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।”
আমিনুর রহমান বলেন, “আমাকে ডিমোশন দেওয়া হয়েছে, এর কারণ জানি না।”
পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, কিছু আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কিছু মানুষ পদে থাকতে অনিচ্ছুক ছিলেন। ভালো কাজকারীদের পদোন্নতি, খারাপদের ডিমোশন দেওয়া হয়েছে, এবং বাদ যাওয়া কয়েকজনের বিষয়ে পুনঃসুপারিশ মন্ত্রণালয়ে করা হয়েছে।